Njjj


Njjj
উৎপল কুমার
মান্দা ,নওগাঁ ,প্রতিনিধি
নওগাঁর মান্দায় আজ ২৭ সেপ্টেম্বর রোজ শনিবার মান্দার কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ জিউ মন্দিরে আয়োজিত শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত সভা শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ জিউ মন্দির এর সদস্য বাবু বিপ্লব কুমার এর সঞ্চালনায় শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ জীউ মন্দিরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বাবু মনোজিৎ সরকারের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ জীবন মন্দির এর সহ-সভাপতি বাবু শ্যামলেন্দু কুমার দাস, বাবু মিলন দাস মজুমদার , বাবু অরুণ সরকার,বাবু সুবোধ প্রামানিক, শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দিরের সদস্য,বাবু জয়ন্ত কুমার সাহা ,বাবু সুনীল কুমার প্রামাণিক, বাবু উৎপল কুমার মন্ডল, রবীন্দ্রনাথ সরকার,দয়ানিধী কবিরাজ ,চন্দন কুমার কবিরাজ ডাক্তার যোগেন্দ্র নাথ সাহা ,নব কুমার ,অনুপ কুমার দাস ,অংকন কুমার ,সুদীপ্তকুমার কুন্ডু , হরনাথ চৌধুরী, সুশীল কুমার সহ মান্দার চৌদ্দটি ইউনিয়ন দূর্গা মন্দিরের সভাপতি ও সম্পাদক বৃন্দ মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।
হসিন রেজা
নওগাঁর মান্দায় বিভিন্ন ইউনিয়ন জুড়ে ধানের শীষের পক্ষে সরাসরি প্রচারণা চালিয়েছেন মান্দা উপজেলা বিএনপির ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী মান্দা উপজেলা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ডাঃ ইকরামুল বারী টিপু । শনিবার সকাল ৮ টা থেকে রাত পর্যন্ত তিনি কুসুম্বা ইউনিয়নে দেলা বাড়ি বাজারে বিভিন্ন গ্রামের সাধারণ মানুষ ও ভোটারদের মধ্যে টানা প্রচারণা চালান তিনি।
এসময় এলাকাবাসীর সঙ্গে কুশল বিনিময় ও পথসভায় তিনি বলেন, ‘ধানের শীষ শুধু একটি নির্বাচনী প্রতীক নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা এবং দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য আমাদের এই লড়াই। দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। সাধারণ কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ প্রতিটি মানুষ আজ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব ও দুর্নীতির কারণে দিশেহারা। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে মানুষকে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।’
‘আমরা চাই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, যেখানে মানুষ নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে। কোনো প্রকার ভয়-ভীতি, জুলুম-নির্যাতন কিংবা অন্যায় প্রভাব যেন না থাকে। আমাদের লক্ষ্য হলো—একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ধানের শীষের বিজয় মানে হলো মানুষের বিজয়, দেশের বিজয়। আমরা কারো সঙ্গে সংঘাত চাই না, বরং জনগণের সঙ্গে সম্প্রীতি চাই। আমাদের প্রতিটি নেতা-কর্মী সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করবে, তাদের পাশে দাঁড়াবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকের ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে এবং দেশে একটি জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে।’
এসময় তিনি বলেন, ‘আজ আমি কুসুম্বা ইউনিয়নের জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হোন। আপনার একটি ভোটই পারে এই দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে, আপনার সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে।’
প্রচারণায় ডাঃ টিপুর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন,মান্দা উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মোজাম্মেল হক মুকুল, মান্দা উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বিদ্যুৎ, মান্দা উপজেলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম,সাইদুর রহমান, আনিস মাস্টার, নাসির উদ্দিন মাস্টার, হাবিব প্রভাষক, শফিক মেম্বার, আবুল কালাম আজাদ,আব্দুল মতিন মুরাদ সমবায়দল, রেজাউল করিম পাইলট, জামিল হোসেন, হারুন, শরিফ উদ্দিন
মহসিন রেজা
নওগাঁর মান্দায় ভালাইন ইউনিয়নে বিখ্যাত ছাতড়া বিলে শনিবার বিকেলে ১ নম্বর ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ জনগণের উদ্যোগে আয়োজনে উৎসবমুখর পরিবেশে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মান্দা উপজেলা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ডাঃ ইকরামুল বারী টিপু । তিনি বলেন, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। এ নৌকা বাইচও হারিয়ে যাবার পথে। আশা করছি হারিয়ে যাওয়া গ্রাম বাংলার এসব খেলা আবার উজ্জীবিত হবে।
লতিফুর রহমান এর সভাপতিত্বে এবং সঞ্চালনায় করেন, আজিজুল হক ও ওয়ালটন বাবু বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক দুই নম্বর ভালাইন ইউনিয়ন বিএনপি,
উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র নেতা আব্দুল্লাহেল কাফি, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান মোল্লা,মান্দা উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মোজাম্মেল হক মুকুল,আব্দুল মতিন মুরাদ দুলালশার সমবায়দল, সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বিদ্যুৎ, যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ওবায়দুল হক,ইয়াসিন আলী, রফিকুল ইসলাম, আফাজ উদ্দিন পেয়াদা, আয়ুব হোসেন, সিরাজুল ইসলাম, মোজাইদুল ইসলাম, অন্যতম যুবনেতা আল মামুন, স্বেচ্ছাসবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম, এনামুল হক, জামিল হোসেন, হারুন, গোলাম মোর্শেদ, তালহা জোবায়ের, শামিম হোসাইন, ছাত্রদল নেতা গোল্ডেন, সাজিদ, রকি প্রমুখ । প্রধান অতিথি বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন।
উৎপল কুমার
মান্দা উপজেলা প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর মান্দা উপজেলার পরানপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদকে লাঞ্ছিত করে পদত্যাগে বাধ্য করার ঘটনায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক নেতারা। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ সোমবার দুপুরে মান্দা উপজেলা পরিষদ চত্বরে শিক্ষক সমাজের উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন বাশিস কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম সোরয়ার স্বপন, বাশিস মান্দা উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন সরদার, মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাকিব এবং মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন।
সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, বিদ্যালয়ে কোচিং বাণিজ্য বন্ধে নোটিশ জারির পর থেকে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়। বিশেষ করে সহকারী শিক্ষক জিয়াউল হক জিয়া ও আব্দুর রহমান এ ষড়যন্ত্রের মূলহোতা হিসেবে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
তারা বলেন, ব্যবসায়িক স্বার্থে গত ১১ সেপ্টেম্বর জিয়াউল হকের কোচিংয়ে অধ্যয়নরত শতাধিক শিক্ষার্থীকে উসকে দিয়ে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ভাঙচুর, প্রধান শিক্ষকের মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং তাকে জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়।
শিক্ষকনেতা গোলাম সোরয়ার স্বপন বলেন, ‘পরানপুর উচ্চবিদ্যালয়ের ঘটনা মান্দার শিক্ষক সমাজকে ব্যথিত ও আতঙ্কিত করেছে। শিক্ষককে লাঞ্ছনা, শ্রেণিকক্ষ ভাঙচুর, মোটরসাইকেল পোড়ানো এসব অপরাধের সাথে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে।’
সমাবেশ শেষে শিক্ষক নেতারা মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথীর কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সার্থী বলেন, এ সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উৎপল কুমার,মান্দা উপজেলা প্রতিনিধি :
নওগাঁর মান্দা উপজেলার নুরুল্যাবাদ ত্রীমহনী থেকে মিঠাপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের দীর্ঘদিনের দুর্দশা লাঘবে এগিয়ে এসেছে ইকরা সুন্নাহ ফাউন্ডেশন।
অতিরিক্ত বর্ষণের কারণে রাস্তা কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় চলাচল প্রায় অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এতে করে স্কুল–কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী ও স্থানীয়দের ভোগান্তি চরমে।
গত ১৬ ই আগস্ট সময় টিভিতে প্রচারিত একটি প্রতিবেদনের পর বিষয়টি নজরে আসে ইকরা সুন্নাহ ফাউন্ডেশের উপদেষ্টা মোশারফ হোসেনের। তিনি জানান, এ নিয়ে সংগঠনের সভাপতি প্রবাসী আব্দুল মতিন মৃধার সঙ্গে কথা বললে তিনি অবিলম্বে সংস্কারের নির্দেশ দেন। স্থানীয় সাংবাদিক বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ আব্দুল মজিদ সম্রাটের নেতৃত্বে ইকরা সুন্না ফাউন্ডেশন এর সদস্যদের ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় রাস্তায় রাবিস বিছানোর কাজ শুরু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম জানান, অনেক দিন ধরে এই রাস্তা চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আজকে যে কাজ শুরু হলো, আল্লাহ যেন তাদের ভালো প্রতিদান দেন।”
সংস্কার কাজের সময় উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা মোশারফ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ একরামুল হক সিজার, প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক সাফিউল ইসলাম রকি , সদস্য প্রভাষক মোঃ আরিফুল ইসলাম আরিফ, আলামিনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গও স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ইকরা সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সৌদি আরব প্রবাসী আব্দুল মতিন মৃধা বলেন –
“মান্দার মানুষের কষ্ট লাঘব করতে সামান্য হলেও আমাদের এই উদ্যোগ কাজে লাগছে জেনে আমি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ। দেশের বাইরে থাকলেও আমি সবসময় এলাকার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। স্থানীয়দের সহযোগিতায় এ কাজ করা সম্ভব হয়েছে। আমরা চাই আগামীতে আরও বড় আকারে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড হাতে নিতেপারব ইনশাআল্লাহ।”
মো: গোলাম কিবরিয়া,রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি:
রাজশাহী জেলার এক-তৃতীয়াংশের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে প্রধান শিক্ষক ছাড়া। জেলার ১ হাজার ৫৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৮৯টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য আছে, এর মধ্যে ৬১টি বিদ্যালয়ের পদ মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় আটকে আছে।
বছরের পর বছর ধরে পদোন্নতি ও নিয়োগ বন্ধ থাকায় এই সংকট আরও গভীর হয়েছে। রাজশাহীর ৯টি উপজেলা এবং মহানগর এলাকার প্রায় প্রতিটি প্রান্তেই এই সংকট ছড়িয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অবস্থা রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলায়, যেখানে সর্বোচ্চ ৯৭টি বিদ্যালয়ে কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। এরপরই আছে গোদাগাড়ী, যেখানে ৭১টি বিদ্যালয়ে একই অবস্থা। এ ছাড়া তানোরে ৬২টি, চারঘাটে ৩৮টি, পুঠিয়ায় ২৭টি, বাঘায় ২২টি, পবায় ২১টি, দুর্গাপুরে ২১টি, মোহনপুরে ২০টি এবং বোয়ালিয়া থানা এলাকায় ১০টি বিদ্যালয়, যেখানে প্রধান শিক্ষক নাই । এই বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে কাজ করছেন।
পবা উপজেলার ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নফুরা খাতুন বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে আমরা যারা দায়িত্ব নিচ্ছি, তাদের হাতে ক্ষমতা নেই। অথচ মিড-ডে মিল, সরকারি ডেটা আপলোড, সভা, অভিভাবক সংযোগ-সবকিছু সামলাতে হচ্ছে। পাঠদানে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। ’ পবার কালুপাড়া মাধাইপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাসুমা আক্তার বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি ঠিকই, কিন্তু একজন সহকারী শিক্ষকের পক্ষে প্রশাসনিক সব দায়িত্ব সামলানো অত্যন্ত কঠিন।
পূর্ণ ক্ষমতা না থাকায় অনেক জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। ’ রাজশাহী জেলা সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘২০১০ সালের পর সরাসরি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ২০১৮ সালে কিছু সহকারী শিক্ষককে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তারাও এখন অবসরে গেছেন। ফলে প্রধান শিক্ষক পদে ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে। ’
রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) টুকটুক তালুকদার বলেন, ‘আমরা নিয়মিতভাবে শূন্য পদের তালিকা পাঠাচ্ছি।
কিন্তু পদোন্নতি না হওয়ায় সংকট কাটছে না। ’ রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সরকার পদোন্নতি বা নিয়োগ না দিলে আমার কী করার আছে। এভাবেই চলছে হচ্ছে আমাদের।
মান্দা (উপজেলা প্রতিনিধি):
নওগাঁর মান্দায় মো. মেহেদী হাসান টগরের স্ত্রী রুনা আক্তার এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, তার স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় করা অভিযোগ এবং বিভিন্ন পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
রবিবার দুপুরে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএমএসইউ) মান্দা শাখা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে স্বামীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করে তিনি জানান, গত ১০ আগস্ট মান্দা থানায় শরিফা বেগম নামে এক নারী তার স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে ১৬ আগস্ট বিভিন্ন পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, অভিযোগকারী শরিফা বেগম একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বড় ছেলে আকাশ মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে একাধিক মামলার আসামি এবং বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছে। এছাড়া ওই নারী স্বামীর মৃত্যুর পর আপন ভাগিনাকে বিয়ে করেন, যার কারণে সমাজ তাকে একঘরে করে।
তিনি অভিযোগ করেন, শরিফা বেগম তার দুই ছেলে, বর্তমান স্বামী ও ছোট মেয়ের জামাইকে নিয়ে একাধিক অমানবিক ঘটনায় জড়িত। কয়েক মাস আগে গরম পানি ঢেলে মানুষ পুড়িয়ে দেওয়া ও দোকানঘর ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটিয়েছে তারা। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করায় তাদের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে ১০ আগস্ট রাত ৯টার দিকে শরিফা বেগম টগরের বাড়িতে এসে গালিগালাজ ও অপমানজনক আচরণ করে এবং টগরের স্ত্রীকে মারধরের চেষ্টা চালায়। ওই ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে থানায় অভিযোগ ও সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে।
এছাড়া তিনি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও কুসুম্বা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম মোর্শেদ চৌধুরীর আনা অভিযোগকেও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, আমার স্বামী বিএনপির একজন সাধারণ কর্মী। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রকৃত কারণ হলো, আমার স্বামী পূর্বে সেলিম মোর্শেদ চৌধুরীর মাদকাসক্তি নিয়ে কথা বলেছিলেন। সালিশে তিনি হেরে যাওয়ার পর থেকেই আমার স্বামীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সেলিম মোর্শেদ চৌধুরী পানি উন্নয়ন বোর্ডের সরকারি জমি দখল করে হাসপাতাল মোড়ে ২০-৩০টি অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। এছাড়াও স্থানীয় একটি মসজিদের সভাপতি হওয়ার পর সামনের জমি দখল করে মাইক্রোবাস গ্যারেজ তৈরি করেছেন। এসব কর্মকাণ্ড দলের আদর্শের পরিপন্থী বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
লিখিত বক্তব্যে টগরের স্ত্রী আরও বলেন, টগরের ছোট মা ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রীও শরিফা বেগমের সঙ্গে মাদক ব্যবসায় জড়িত। বিষয়টি নিয়ে স্বামী প্রতিবাদ করায় তারা নানা অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে তার স্বামীর বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কেউ মিথ্যা অপপ্রচার চালালে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন।
উৎপল কুমার, মান্দা (উপজেলা প্রতিনিধি)
তথ্য প্রযুক্তির যথাযথ
ব্যবহার এবং উৎপাদনমুখী শিক্ষাব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে নওগাঁর মান্দায় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী ৩৪৯ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) মান্দা থানা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের হলরুমে মান্দা উপজেলার বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. ইকরামুল বারী টিপু এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন মাধ্যমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অভিভাবকদেরও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে উৎসাহিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান আয়োজক ডা. ইকরামুল বারী টিপু তার বক্তব্যে বলেন, মেধা দেশের সম্পদ। তোমাদের মেধা ও সততা দিয়ে আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তি জ্ঞান এবং নৈতিকতার সমন্বয়ই সফলতার মূল চাবিকাঠি। শুধুমাত্র ভালো ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, মানবিকতা, সততা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের মতো গুণাবলী অর্জন করাও অত্যন্ত জরুরি।
তিনি অভিভাবকদেরও শিক্ষার্থীদের মানবিকতা, সততা, সৃজনশীলতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য অতিথিরাও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন। তারা শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো ফলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে মানবিক গুণাবলি, সৃজনশীলতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল করতে অনুপ্রাণিত করবে।
এ সময় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন, মান্দা থানা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী মিশকাত শাকিরা, বানডুবি হাজী ইসমাইল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোসা. রাজিয়া সুলতানা, কালীগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল শাহারিয়া লিমুন।
অনুষ্ঠানে অতিথিদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম সারোয়ার স্বপন, কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মো. মুহসিন আলী, কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক নুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক জনাব সাদেরুল ইসলাম সদর, যুগ্ম আহ্বায়ক চককামদেব বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ, মান্দা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খালেকুন বেগম, মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি ইরফান আলী মিয়া, সাধারন সম্পাদক মো. সোহরাব হোসেন প্রমুখ।
নওগাঁর মান্দায় মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল চকউলী হাইস্কুল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন।
শনিবার (১৬ আগস্ট ) সকালে চকউলী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তি ও শিক্ষা সহায়তা প্রদান করা হয়।
চকউলী অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হামিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইঞ্জিনিয়ার আল-ইমরান।
উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা জানান, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ সৃষ্টি করা এবং তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে অনুপ্রেরণা জোগানো। সদস্যদের বিশ্বাস, এ ধরনের সহায়তা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগ্রহণে উৎসাহিত করবে এবং তাদের মেধার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের এই মহৎ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিশেষ অতিথিরা তাদের বক্তব্যে শিক্ষার প্রসারে এ ধরনের কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে দেশের সব অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনকে অনুরূপ উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানায়, এই আর্থিক সহায়তা তাদের পড়াশোনায় অমূল্য ভূমিকা রাখবে। তারা ভালো ফলাফল করে এই সহায়তার মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকার করে। অনেকেই ভবিষ্যতে অন্যদের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে।
আয়োজকরা জানান, এই কার্যক্রম আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে। আরও বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থীকে বৃত্তি ও সহায়তার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তাদের বিশ্বাস, এ ধরনের উদ্যোগ একটি উন্নত সমাজ গঠনে সহায়ক হবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে।
বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি মো. হামিদুর রহমান, কার্যনির্বাহী সদস্য ডা. ফজলুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আশরাফুল ইসলাম, বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. আবদুল মান্নান, ডা. ইকরামুল বারী টিপু প্রমুখ। এছাড়াও অন্যান্য সদস্যরা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ বক্তব্য রাখেন ।